
বিউরো রিপোর্ট, জামালপুর: বর্ধমানের জামালপুরে ইটলা এলাকার ছানা পট্টি মোড়ে পুকুরের জল থেকে তৃণমূল পরিচালিত পারাতল-২ পঞ্চায়েতের সদস্য শুভেন্দু মালিকের (৪২) দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সমগ্র এলাকায়। গতকাল দুপুর থেকে নিখোঁজ থাকার পর আজ সকালে তাঁর দেহ ভাসতে দেখা যায় পুকুরে।
ঘটনা সূত্রে জানা যায়, গতকাল দুপুরের পর থেকেই কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না পঞ্চায়েত সদস্য শুভেন্দু মালিকের। পরিবারের সদস্যরা ও তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্বরা আলাদা আলাদাভাবে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। আজ সকালে স্থানীয়রা ইটলা এলাকায় পুকুরের ধারে তাঁর মোটরবাইক পড়ে থাকতে দেখেন। সন্দেহ হওয়ায় তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখেন পুকুরের ধারে একটি গাড়ি পড়ে আছে। গাড়িটি দেখে প্রথমে স্থানীয়রা নিশ্চিত হন, এটি পঞ্চায়েত সদস্যের গাড়ি।
পরিবারকে খবর দিলে তাঁরা ঘটনাস্থলে এসে মোটরবাইক ও গাড়ি চিহ্নিত করেন। কিছুক্ষণ পর পুকুরের জলে ভাসতে দেখা যায় শুভেন্দুর দেহ। খবর পেয়ে জামালপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি মেহমুদ খানসহ স্থানীয় নেতৃত্বরাও উপস্থিত হন। পুলিশ দেহ উদ্ধার করে জামালপুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।
ব্লক সভাপতি মেহমুদ খান জানান “শুভেন্দু মালিক পারাতল–২ পঞ্চায়েতের পারুল এলাকার ১১৪ নম্বর বুথের পঞ্চায়েত সদস্য ছিলেন। অত্যন্ত সক্রিয় কর্মী ছিলেন তিনি। মৃত্যুর ঘটনায় আমরা হতবাক।”
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মৃতের মাথায় আঘাতের দাগ রয়েছে। কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে এলাকাবাসীর মনে। মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ সন্দেহজনক। শুভেন্দুর স্যালক জানিয়েছেন “আমাদের সন্দেহ, কাউকে ঠেলেই পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়েছে। পুরো বিষয়টি অস্বাভাবিক।”
পরিবারের তরফে জামালপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হবে বলে জানা গেছে।
পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট নয় বলেই পুলিশ সূত্রে খবর। ব্লক সভাপতি মেহমুদ খান জানিয়েছেন “তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে, এটা দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত কিছু।”
শুভেন্দু মালিকের আকস্মিক মৃত্যুতে শোক ছড়িয়েছে পারুল ও পারাতল এলাকায়। তৃণমূল নেতৃত্ব ও স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁর প্রয়াণে গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।





















