
শিলিগুড়ি: বাংলাদেশের হিন্দুদের উপর নির্যাতনের অভিযোগকে সামনে রেখে শিলিগুড়িতে অবস্থিত বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি তুলল বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) ও হিন্দু জাগরণ মঞ্চ। বুধবার শিলিগুড়ির পানিট্যাঙ্কি মোড় এলাকায় অবস্থিত সোনালী ব্যাংকের শাখার সামনে বিক্ষোভ দেখান সংগঠনের সমর্থকেরা। বিক্ষোভকারীদের স্পষ্ট বক্তব্য যে দেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর “অমানবিক ও অমানসিক অত্যাচার” চলছে, সেই দেশের কোনও ব্যাংক ভারতের মাটিতে ব্যবসা করতে পারে না।
বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও হিন্দু জাগরণ মঞ্চের নেতৃত্বের দাবি, বর্তমানে বাংলাদেশে যেভাবে ধারাবাহিকভাবে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলা, অত্যাচার ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠে আসছে, তাতে ভারতের উচিত কড়া অবস্থান নেওয়া। তাদের বক্তব্য, “যেখানে হিন্দুদের নিরাপত্তা নেই, যেখানে মন্দির ভাঙচুর, সম্পত্তি লুঠ এবং নির্যাতনের অভিযোগ সামনে আসছে, সেখানে ভারতের মতো দেশে বাংলাদেশের কোনও ব্যাংকের কার্যক্রম চলতে দেওয়া যায় না।”
বিক্ষোভ চলাকালীন সংগঠনের নেতারা জানান, শুধুমাত্র শিলিগুড়ি নয়, গোটা ভারত থেকেই বাংলাদেশের সব ব্যাংক বন্ধ করা উচিত। তাঁদের মতে, এটি কেবল একটি আর্থিক বা কূটনৈতিক বিষয় নয়, বরং মানবাধিকার ও ধর্মীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন। হিন্দু জাগরণ মঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়, “বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর যে অত্যাচার চলছে, তার বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিবাদ জানাতেই হবে। যতদিন না দুই দেশের সম্পর্ক একটি গ্রহণযোগ্য ও সম্মানজনক অবস্থানে পৌঁছচ্ছে, ততদিন সোনালী ব্যাংক খোলা রাখা যাবে না।”
বিক্ষোভকারীরা স্লোগান তোলেন “বাংলাদেশের কোনও ব্যাংক ভারতের মাটিতে চলবে না” এবং “হিন্দু নির্যাতন বন্ধ করো।” বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ হলেও এলাকায় কিছুক্ষণের জন্য উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল শিলিগুড়ি থানার পুলিশ। পুলিশি নজরদারির মধ্যেই বিক্ষোভকারীরা তাদের প্রতিবাদ কর্মসূচি সম্পন্ন করেন।
সংগঠনের নেতাদের আরও দাবি, ভারত সরকার ও রাজ্য প্রশাসনের উচিত এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া এবং সোনালী ব্যাংকের কার্যক্রম নিয়ে পুনর্বিবেচনা করা। তাঁদের মতে, যতদিন না বাংলাদেশ সরকার সংখ্যালঘু হিন্দুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ করছে এবং দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হচ্ছে, ততদিন এই ধরনের প্রতিষ্ঠান ভারতে থাকা অনুচিত।
যদিও এই বিষয়ে সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বা প্রশাসনের তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, কূটনীতি ও বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত এই ইস্যু আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর শিলিগুড়ি তথা গোটা দেশের।

















