
দক্ষিণবঙ্গ : স্সরকারি স্কুলে ফি হঠাৎ বাড়ানোর অভিযোগে শিলিগুড়ির হাকিমপাড়া বিদ্যালয়ের সামনে শুক্রবার বিক্ষোভে সামিল হলেন অভিভাবকেরা। সকাল থেকেই বিদ্যালয় চত্বরে জড়ো হয়ে তাঁরা স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। অভিভাবকদের দাবি, রাজ্য সরকারের নির্দিষ্ট নির্দেশিকা থাকা সত্ত্বেও স্কুল কর্তৃপক্ষ একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফি বৃদ্ধি করেছে, যার চাপ সরাসরি পড়ছে ছাত্রছাত্রী ও তাদের পরিবারের উপর।
বিক্ষোভরত অভিভাবকেরা জানান, বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতিতে সাধারণ মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের পক্ষে সন্তানদের পড়াশোনার খরচ চালানো এমনিতেই কঠিন হয়ে উঠেছে। তার উপর হঠাৎ করে স্কুল ফি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়ে দেওয়ায় অনেক পরিবার চরম সমস্যায় পড়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, “কোন যুক্তিতে এতটা ফি বাড়ানো হলো? আগে কোনও আলোচনা বা নোটিস ছাড়াই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া কীভাবে সম্ভব?”
এক অভিভাবক বলেন, “আমরা কোনোরকমে সংসার চালিয়ে সন্তানদের স্কুলে পড়াচ্ছি। কিন্তু এভাবে যদি প্রতি বছর বা হঠাৎ করে ফি বাড়ানো হয়, তাহলে আমাদের পক্ষে আর সন্তানদের স্কুলে পাঠানো সম্ভব হবে না।” আরেকজন অভিভাবক জানান, অনেকেই ধার করে বা সঞ্চয় ভেঙে সন্তানের পড়াশোনার খরচ চালাচ্ছেন। এই অবস্থায় স্কুল ফি বৃদ্ধি মানে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা।
অভিভাবকদের আরও অভিযোগ, রাজ্য সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যাতে স্কুল ফি বাড়ানোর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম মানা হয় এবং অভিভাবকদের উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ না পড়ে। অথচ বাস্তবে সেই নির্দেশিকা মানা হচ্ছে না। তাঁদের মতে, একদিকে সরকারের নির্দেশ একরকম, অন্যদিকে স্কুল কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে হাঁটছে।
এই বিষয়ে হাকিমপাড়া বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, “স্কুল ফি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত স্কুল কমিটির। এই বিষয়ে প্রধান শিক্ষিকার কিছু বলার নেই।” তবে এই বক্তব্য মানতে নারাজ অভিভাবকেরা। তাঁদের পাল্টা প্রশ্ন, “যেখানে রাজ্য সরকার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, সেখানে স্কুল কমিটি কীভাবে তার ঊর্ধ্বে যেতে পারে?”
বিক্ষোভ চলাকালীন অভিভাবকেরা দাবি করেন, অবিলম্বে ফি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে এবং স্কুল কর্তৃপক্ষকে স্বচ্ছভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে হবে। তাঁদের হুঁশিয়ারি, দাবি মানা না হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবেন তাঁরা।
বিক্ষোভের জেরে কিছু সময়ের জন্য বিদ্যালয় চত্বরে উত্তেজনা ছড়ালেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্কুল ফি বৃদ্ধি ও রাজ্য সরকারের নির্দেশিকা মানা হচ্ছে কি না তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
এখন দেখার, অভিভাবকদের এই বিক্ষোভের পর স্কুল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয় এবং ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় কোনও সমাধানসূত্র বেরোয় কি না।















