
মহঃ সফিউল আলম, সিউড়ি, বীরভূম৷
জেলা তথা রাজ্যের গর্ব, শিল্পগুরু ও জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত সূচিশিল্পী এবং উদ্যোগপতি তৃপ্তি মুখোপাধ্যায় ২০২৬ সালে পদ্মশ্রী পুরস্কারে সম্মানিত হওয়ায় তাঁকে বিশেষ সংবর্ধনা জানাল গাছ গ্রুপ বীরভূম জেলা। সম্প্রতি তাঁর নিজ বাসভবনে গিয়ে গাছ গ্রুপ বীরভূম জেলার পক্ষ থেকে এই সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। শিল্পী হিসেবে তাঁর দীর্ঘদিনের সাধনা, নিষ্ঠা ও অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই সম্মাননায় জেলাবাসী সহ গাছ গ্রুপের সকল সদস্যই গর্বিত ও আপ্লুত বলে জানা গিয়েছে।
তৃপ্তি মুখোপাধ্যায় সূচিশিল্পকে কেবল জীবিকার মাধ্যম হিসেবে নয়, বরং শিল্প ও সংস্কৃতির এক অনন্য ধারায় পরিণত করেছেন। তাঁর সৃষ্ট শিল্পকর্ম দেশ-বিদেশে সমাদৃত হয়েছে এবং বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলার শিল্পঐতিহ্যকে তুলে ধরেছে। পদ্মশ্রী প্রাপ্তির মাধ্যমে সেই দীর্ঘ শিল্পযাত্রারই এক ঐতিহাসিক স্বীকৃতি মিলেছে বলে মনে করছেন সংস্কৃতিপ্রেমীরা।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে গাছ গ্রুপের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তৃপ্তি মুখোপাধ্যায় তাঁদের আবেদনে সাড়া দিয়ে গাছ গ্রুপ বীরভূম জেলার সম্মানিক বিশিষ্ট উপদেষ্টার পদ গ্রহণে সম্মতি জানিয়েছেন। এই সম্মতি পাওয়ায় গাছ গ্রুপের সকল সদস্য বিশেষভাবে আনন্দিত ও গর্বিত। তাঁদের মতে, তৃপ্তি মুখোপাধ্যায়ের মতো একজন শিল্পগুরু ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্বের দিকনির্দেশনা ভবিষ্যতে গাছ গ্রুপের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিল্পসংক্রান্ত কর্মকাণ্ডকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
এই সাক্ষাৎ ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলে তৃপ্তি মুখোপাধ্যায়ের বিভিন্ন আকর্ষণীয় ও অনন্য শিল্পকর্ম কাছ থেকে দেখার সুযোগ পান। তাঁর সূচিশিল্পের সূক্ষ্মতা, রঙের ব্যবহার ও ভাবনার গভীরতা দেখে সকলে মুগ্ধ হন। অনেকেই বলেন, তাঁর শিল্পকর্ম শুধু নান্দনিক সৌন্দর্যই বহন করে না, বরং এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে গ্রামবাংলার জীবন, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের গল্প।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভক্তিময় দাস বর্মন, পরেশনাথ কর্মকার, চন্দনা কর্মকার, অপর্ণা মুখার্জী, সুস্মিতা সিনহা, আলপনা ভট্টাচার্য, মৌ চ্যাটার্জী, ইমন চক্রবর্তী এবং অজয় দাস সহ গাছ গ্রুপের অন্যান্য সদস্যরা। উপস্থিত সকলে তৃপ্তি মুখোপাধ্যায়কে উত্তরীয় ও স্মারক দিয়ে সম্মান জানান এবং তাঁর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।
সংবর্ধনার শেষে তৃপ্তি মুখোপাধ্যায় গাছ গ্রুপ বীরভূম জেলার এই সম্মাননার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এই ধরনের স্বীকৃতি শিল্পীদের আরও দায়িত্বশীল করে তোলে এবং আগামী প্রজন্মের শিল্পীদের উৎসাহ জোগায়। তাঁর মতে, শিল্প ও সংস্কৃতির ধারাকে বাঁচিয়ে রাখতে সামাজিক সংগঠনগুলির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে, গাছ গ্রুপ বীরভূমের এই উদ্যোগ শুধু একজন শিল্পগুরুকে সম্মান জানানোই নয়, বরং জেলার শিল্প-সংস্কৃতির ঐতিহ্যকে নতুন করে তুলে ধরার এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছেন সচেতন মহল।














