
নিজস্ব সংবাদদাতা, দক্ষিণ দিনাজপুর: পুরোপুরি শীত না এলেও, দক্ষিণ দিনাজপুরে এখন হিমেল হাওয়ায় শীতের আভাস স্পষ্ট। সকাল-সন্ধ্যার ঠান্ডা আর রাতের কুয়াশা জানান দিচ্ছে – শীতের আগমন ঘটেছে। আর এই হালকা শীতেই জেলাজুড়ে শুরু হয়েছে লেপ-তোশক তৈরির ধুম। ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন স্থানীয় ও বিহার থেকে আসা কারিগররা।
বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা ও হাটবাজারে এখন চলছে লেপ-তোশক তৈরির প্রস্তুতি। কেউ পুরোনো লেপ বের করে মেরামত করছেন, কেউ আবার নতুন লেপ তৈরির অর্ডার দিচ্ছেন। ফলে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে কারিগরদের টুংটাং আওয়াজ, বাতাসে উড়ে বেড়ানো তুলা আর ব্যস্ততার চিত্র স্পষ্ট – সব মিলিয়ে জেলাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে শীতের অনুভূতি।
স্থানীয় এক কারিগর জানান, “সপ্তাহখানেক আগেও তেমন কাজ ছিল না। কিন্তু এখন প্রতিদিনই নতুন অর্ডার আসছে। সকালে কুয়াশা পড়া শুরু হতেই লেপ তৈরির কাজ বেড়ে গেছে।”
জেলার কারিগর আহমদ আলী বলেন, “এখন কেবল শীতের শুরু, কিন্তু কয়েকদিন পর দিন-রাত সমান তালে কাজ করতে হবে। বর্তমানে পুরনো লেপ খুলে নতুন করে বানানোর অর্ডারই বেশি। পাশাপাশি গার্মেন্টসের তুলা দিয়ে তৈরি লেপের চাহিদাও বাড়ছে।”
অন্যদিকে বিহার থেকে আসা ধুনকরা (লেপ-তোশক তৈরির কারিগর) এখন পুরোদমে কাজে ব্যস্ত। বিহারের কারিগর মন্টু চৌধুরী জানান, “গত এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিনই ৫ থেকে ১০টি অর্ডার পাচ্ছি। এখন বিয়ের মৌসুম, শীতও বাড়ছে – তাই আশা করছি প্রতিদিন ২০-২৫টি অর্ডার পাবো।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা একেকটি বড় লেপ তৈরি করছি পাঁচ কেজি তুলা দিয়ে, যার দাম এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকার মধ্যে। এবার তুলার দাম কিছুটা বেশি হওয়ায় গত বছরের তুলনায় বড় লেপের দাম ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে, আর সিঙ্গেল লেপের দাম বেড়েছে প্রায় ১০০ টাকা।”
রাকেশ চৌধুরী নামে আরও এক কারিগর জানান, “আমরা অগ্রিম কিছু লেপ-তোশক বানিয়ে রাখছি, কারণ অনেক ক্রেতা রেডিমেড অবস্থায় কিনে নিতে পছন্দ করেন।”
সব মিলিয়ে দক্ষিণ দিনাজপুরে শীতের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে জীবিকার চাকা ঘুরছে লেপ-তোশক তৈরির কারিগরদের হাতে। এই ব্যস্ততাই জানিয়ে দিচ্ছে – শীত এখন আর দোরগোড়ায় নয়, প্রায় উপস্থিত।

















