
কোলকাতা নিউজ, পূর্ব বর্ধমান: সরলতা আর অসচেতনতার কারণে অকালে ঝরে গেল একটি ফুটফুটে প্রাণ। পূর্ব বর্ধমান জেলার গলসির মিঠাপুর শ্রী দুর্গা হাই স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী কবিতা বাউরী ওরফে রিমি (বয়স আনুমানিক ১১ বছর) সর্পদংশনে আক্রান্ত হয়ে শুক্রবার দুঃখজনকভাবে মৃত্যু হয়। ঘটনাটি জানাজানি হতেই শোকের ছায়া নেমে আসে গোটা গ্রাম এবং বিদ্যালয়ে।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, রিমির বাবা খোকন সরদার এবং মা উভয়েই দিনমজুর। প্রতিদিনের মতো শুক্রবারও তারা কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। বাবা-মায়ের নির্দেশ অনুযায়ী স্কুলে যাওয়ার আগে ঘরের কাজ করতে গিয়ে সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয় রিমি। ভয়ে বা অসচেতনতার কারণেই সে বিষয়টি কাউকে কিছু না জানিয়ে স্কুলে চলে যায়।
স্কুলে যাওয়ার পথে শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করলেও পরীক্ষা দিতে বসে রিমি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অবস্থার অবনতি হতে থাকলে শিক্ষকরা বিষয়টি লক্ষ্য করেন এবং পরবর্তীতে জানতে পারেন এটি সর্পদংশনের ঘটনা। তৎক্ষণাৎ তাকে আদ্রাহাটি ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয় এবং একইসঙ্গে তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।
স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে তাকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করার পরামর্শ দেওয়া হলেও, শেষ পর্যন্ত আর তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে ছোট্ট রিমি।
এই অকাল মৃত্যুতে শোকের ছায়া গ্রামজুড়ে। বিদ্যালয়ের শিক্ষক-সহপাঠীদের চোখে অশ্রু। সকলের একটাই আফসোস “যদি আরও আগে বিষয়টি জানা যেত, সময়মতো সঠিক চিকিৎসা হলে হয়তো রিমিকে বাঁচানো যেত!”
এই হৃদয়বিদারক ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল সর্পদংশনের ক্ষেত্রে বিলম্ব মারাত্মক হতে পারে, তাই সচেতনতা এবং তাৎক্ষণিক চিকিৎসাই জীবন বাঁচানোর প্রধান চাবিকাঠি।














