
শিলিগুড়ি: বিজেপির বর্তমান সময়ের অন্যতম প্রচারের মুখ, বিশিষ্ট অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ মিঠুন চক্রবর্তী গতকাল শিলিগুড়ি পৌঁছতেই তাঁকে উষ্ণ সংবর্ধনা জানালেন দলের নেতৃত্ব ও কর্মীরা। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে কর্মসূচির বিভিন্ন স্থানে তাঁকে ঘিরে উৎসাহ-উদ্দীপনা ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে মিঠুনের আগমন ঘিরে আলাদা উত্তেজনা লক্ষ্য করা যায়।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে খুব বেশি কথা না বললেও মিঠুন চক্রবর্তী তাঁর বক্তব্যে আগামী বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, “মানুষ এবার বুঝতে পেরে গেছে, তাদের ঠিক কোন কাজটা করতে হবে। আর এবার সেটাই হবে।” তাঁর কথায় স্পষ্ট, ভোটারদের মনোভাব বদলাচ্ছে এবং সেই পরিবর্তনের ফল আগামী নির্বাচনে প্রতিফলিত হবে।
মিঠুন আরও বলেন, উত্তরবঙ্গের মানুষ অনেক আগেই সবকিছু ঠিকভাবে বুঝে গেছেন। কীভাবে কাজ করে এগিয়ে যেতে হয়, সেই বোধ তাঁদের মধ্যে তৈরি হয়েছে। তাঁর মতে, মানুষ এখন আর আবেগে নয়, বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। আগামী বিধানসভা নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি জানান, “বেশি বলা যায় না, মাত্র কয়েক মাস বাকি। আপনারা নিজেরাই দেখে নেবেন কী ফলাফল হতে চলেছে।”
বিজেপির এই প্রচার মুখ জোর দিয়ে বলেন, মানুষের কাছে থাকতে হবে, মানুষের সঙ্গে থেকেই রাজনীতি করতে হবে। এই ভাবনাতেই বিজেপি এগোচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, দলের লক্ষ্য শুধুমাত্র ক্ষমতা দখল নয়, বরং মানুষের দৈনন্দিন সমস্যার সমাধান করা। মিঠুন চক্রবর্তীর কথায়, বিজেপি যদি ক্ষমতায় আসে, তাহলে সাধারণ মানুষের আর কোনও সমস্যাই থাকবে না। মানুষের জীবনযাত্রা সহজ হবে এবং প্রশাসনিক স্তরে স্বচ্ছতা আসবে।
ভোট প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, মানুষ এবার বিবেচনা করে ঠিক করতে পারবেন কোন কাজটা করা উচিত, আর কোনটা করা উচিত নয়। ভোটের ফলাফলের উপর ভিত্তি করেই বিজেপির আগামী দিনের কর্মসূচি নির্ধারিত হবে বলেও জানান তিনি। অর্থাৎ, মানুষের রায়কেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে চায় বিজেপি এই বার্তাই দিতে চেয়েছেন মিঠুন।
এদিন শিলিগুড়িতে মিঠুন চক্রবর্তীকে এক নজর দেখতে হাজির ছিলেন তাঁর বহু অনুরাগী ও ভক্ত। রাজনীতির পাশাপাশি চলচ্চিত্র জগতের ‘মহাগুরু’ হিসেবে এখনও যে তাঁর জনপ্রিয়তা অটুট, তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে এই ভিড়ে। ভক্তদের অনুরোধে হাসিমুখে অটোগ্রাফ দেন মিঠুন, অনেকের সঙ্গে ছবি তুলতেও দেখা যায় তাঁকে।
সব মিলিয়ে শিলিগুড়িতে মিঠুন চক্রবর্তীর এই সফর বিজেপির উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন করে উত্তাপ বাড়াল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই বিজেপির প্রচারে মিঠুনের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে এমনটাই ধারণা রাজনৈতিক মহলের।














