
গুয়াহাটি: অসমের সঙ্গীত ও সংস্কৃতি জগতের অন্যতম উজ্জ্বল নাম, প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী ও সাংস্কৃতিক আইকন জুবিন গর্গের সৃজনশীল উত্তরাধিকার সংরক্ষণে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। শিল্পীর স্ত্রী গরিমা শইকীয়া গর্গ জানিয়েছেন, জুবিন গর্গের নামে একটি ট্রাস্ট গঠন করা হবে, যার মাধ্যমে তাঁর বহুমাত্রিক সৃষ্টিকে সংরক্ষণ, গবেষণা ও প্রসারের কাজ করা হবে।
গরিমা শইকীয়া গর্গের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো জুবিন গর্গের গান, সঙ্গীতভাবনা, সাহিত্যচর্চা এবং সামগ্রিক সাংস্কৃতিক অবদানকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত করা। তিনি জানান, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক মূল্যবান সৃষ্টিকর্ম হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। সেই কারণেই সংগঠিত ও পরিকল্পিত উপায়ে শিল্পীর কাজ সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি। ট্রাস্টের মাধ্যমে জুবিন গর্গের সৃষ্টিগুলি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।
এই ট্রাস্ট শুধু সংরক্ষণেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। গরিমা শইকীয়া গর্গ জানান, ভবিষ্যতে গবেষণা কার্যক্রম, সঙ্গীত ও সাংস্কৃতিক কর্মশালা, আলোচনা সভা এবং প্রদর্শনীর মতো নানা উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে তরুণ প্রজন্ম জুবিন গর্গের শিল্পচেতনা, চিন্তাভাবনা ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে পরিচিত হতে পারবে। একই সঙ্গে গবেষকদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য তথ্যভাণ্ডার তৈরি করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
গরিমা শইকীয়া গর্গ বলেন, “জুবিন গর্গ শুধু একজন কণ্ঠশিল্পী নন, তিনি ছিলেন অসমের সংস্কৃতির এক শক্তিশালী কণ্ঠস্বর। তাঁর গান, সুর ও কথায় উঠে এসেছে অসমের মাটি, মানুষ ও আবেগ। এই উত্তরাধিকার বাঁচিয়ে রাখা আমাদের দায়িত্ব।” তাঁর মতে, ট্রাস্ট গঠনের মাধ্যমে জুবিন গর্গের শিল্পীসত্তাকে একটি স্থায়ী ও সম্মানজনক রূপ দেওয়া সম্ভব হবে।
এই ঘোষণার পর অসমবাসীর মধ্যে আবেগ ও আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সঙ্গীতপ্রেমী থেকে শুরু করে সংস্কৃতি গবেষক অনেকেই এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, জুবিন গর্গের মতো একজন শিল্পীর কাজ সংরক্ষণ করা মানে অসমের সাংস্কৃতিক ইতিহাসকে রক্ষা করা। সামাজিক মাধ্যমেও এই ঘোষণাকে ঘিরে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
জুবিন গর্গ দীর্ঘদিন ধরে অসমীয়া সঙ্গীত ও সংস্কৃতিকে দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে পরিচিত করে তুলেছেন। তাঁর গান শুধু বিনোদন নয়, বরং অসমের পরিচয় ও আত্মপরিচয়ের প্রতিফলন। সেই কারণে তাঁর সৃষ্টিকে ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংস্কৃতিমহল।
সব মিলিয়ে, গরিমা শইকীয়া গর্গের এই উদ্যোগ জুবিন গর্গের শিল্পীজীবনের প্রতি এক গভীর শ্রদ্ধার নিদর্শন। এই ট্রাস্টের মাধ্যমে তাঁর সৃষ্টিকর্ম নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছবে এবং অসমের সাংস্কৃতিক ভান্ডার আরও সমৃদ্ধ হবে এমনটাই আশা করছেন শিল্পী-অনুরাগীরা।

















