
মহঃ সফিউল আলম, চন্দ্রপুর, রাজনগর, বীরভূম
বীরভূম জেলার সিউড়ি-রাজনগর রুটে বৃহস্পতিবার দুপুরে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। চন্দ্রপুর থানার অন্তর্গত হীরাখুনি মোড়ের কাছে পাকা সড়কের উপর আচমকাই একটি মালবোঝাই লরি উল্টে যায়। দুর্ঘটনার সময় লরিটির তলায় চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় এক বয়স্ক ব্যক্তির।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুর নাগাদ সিউড়ি থেকে রাজনগরের দিকে যাওয়া একটি লরি হীরাখুনি মোড়ের কাছে এসে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। দুর্ঘটনার মুহূর্তে রাস্তার পাশে থাকা ওই ব্যক্তি লরির নিচে চাপা পড়েন। লরিটি ভারী মালপত্রে বোঝাই থাকায় উদ্ধার কাজে কিছুটা সময় লাগে। স্থানীয়দের দাবি, দুর্ঘটনার শব্দে ছুটে এসে তাঁরা দেখেন একজন ব্যক্তি লরির তলায় আটকে রয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশের অনুমান, মৃত ব্যক্তি পেশায় ফেরিওয়ালা ছিলেন। তিনি সম্ভবত রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে বা চলাচল করছিলেন, সেই সময়ই নিয়ন্ত্রণহীন লরিটি উল্টে গিয়ে তাঁকে চাপা দেয়। তবে এখনও পর্যন্ত মৃতের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। স্থানীয়দের ধারণা, ওই ব্যক্তির বাড়ি মুর্শিদাবাদ জেলায় হতে পারে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় চন্দ্রপুর থানার পুলিশ এবং দমকল বাহিনীর কর্মীরা। উদ্ধারকাজে একটি ক্রেন আনা হয়। দীর্ঘ চেষ্টার পর লরির নিচ থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়। এরপর পুলিশ মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য সিউড়ি সদর হাসপাতালে পাঠায়।
এই দুর্ঘটনার জেরে কিছু সময়ের জন্য সিউড়ি–রাজনগর রুটে যান চলাচল ব্যাহত হয়। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। দুর্ঘটনাস্থল ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে শোক ও ক্ষোভের আবহ সৃষ্টি হয়। অনেকে এই ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন এবং রাস্তার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি তোলেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনাগ্রস্ত লরিটিকে আটক করা হয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকেই লরির চালক ও খালাসি পলাতক রয়েছে। তাদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে চন্দ্রপুর থানা। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, অতিরিক্ত গতি বা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে লরিটি নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে। তবে সঠিক কারণ জানতে বিস্তারিত তদন্ত চলছে।
চন্দ্রপুর থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মৃত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চালক ও খালাসিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ফের একবার সড়ক নিরাপত্তা ও ভারী যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।














