
মো সাকিবুল ইসলাম, বাংলাদেশ: করতোয়ার তীরে মা অপর্ণার জাগ্রত পীঠ বগুড়ার ভবানীপুর, ৫১ শক্তিপীঠের নাম নিলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে কামাখ্যা বা কালীঘাটের নাম কিন্তু আমাদের খুব কাছেই বাংলাদেশের বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলায় যে এক পরম পবিত্র ভূমি শান্ত হয়ে জেগে আছে তার খবর হয়তো অনেকেই রাখেন না। বলছি মা সতীর অন্যতম শক্তিপীঠ ভবানীপুর এর কথা।
বগুড়া শহর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে করতোয়া নদীর কোল ঘেঁষে এই মন্দিরের অবস্থান। পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী এখানে দেবী সতীর বাম পায়ের নূপুর পতিত হয়েছিল। এখানে মা পূজিত হন অপর্ণা নামে আর ভৈরব হলেন বামেশ।
সরেজমিনে মন্দির প্রাঙ্গণে গেলে এক অদ্ভুত নির্জনতা আর আধ্যাত্মিক পরিবেশ চোখে পড়ে। মন্দিরের প্রবেশপথেই চোখে পড়বে বিশাল এক তোরণ। ভেতরে প্রবেশ করলেই দেখা যায় মূল মন্দির যা ঘেরা রয়েছে সবুজে। এই মন্দিরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে নাটোরের রানী ভবানীর নাম। তিনি নিজে এখানে অনেকটা সময় কাটিয়েছেন এবং মন্দিরের সংস্কার কাজে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন।
তবে ভবানীপুরের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর শাঁখা পুকুর। লোকমুখে প্রচলিত আছে এক শাঁখারি যখন এই পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন তখন এক বালিকা তার কাছ থেকে শাঁখা পরেছিলেন এবং বলেছিলেন তার বাবা এর দাম দিয়ে দেবেন। পরে জানা যায় সেই বালিকা স্বয়ং দেবী অপর্ণা ছিলেন। আজও ভক্তরা ভক্তিভরে এই পুকুরের জল মাথায় ঠেকান।
প্রতি বছর মাঘী পূর্ণিমা আর রাম নবমীর সময় এখানে মেলা বসে। বিশেষ করে ওপার বাংলা বা কলকাতা থেকে অনেক পর্যটক আর ভক্তরা এখানে আসেন। মন্দিরের পাশেই ভক্তদের থাকার জন্য পান্থশালা বা গেস্ট হাউসের ব্যবস্থাও আছে।
বগুড়ার শেরপুর থেকে ঘোগা বটতলা হয়ে খুব সহজেই এই মন্দিরে আসা যায়। যাতায়াত ব্যবস্থা এখন বেশ উন্নত। যারা একটু শান্তিতে দেবীদর্শন আর ইতিহাসের ছোঁয়া পেতে চান তাদের জন্য ভবানীপুর শক্তিপীঠ এক অনন্য গন্তব্য। আমাদের দুই বাংলার এই অভিন্ন ঐতিহ্যগুলো যেন এখনো একে অপরের সাথে আত্মার টান বজায় রেখেছে।


















