
রূপে লক্ষ্মী, গুণে সরস্বতী এই প্রবাদকে বাস্তবে বারবার প্রমাণ করে চলেছেন বঙ্গকন্যা মেহুলি ঘোষ। আন্তর্জাতিক রাইফেল শুটিং প্রতিযোগিতায় একের পর এক সাফল্যের মাধ্যমে দেশের ক্রীড়াজগতে নিজের আলাদা পরিচিতি গড়ে তুলেছেন তিনি। এবার সেই ধারাবাহিক সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে ভারতের অন্যতম সর্বোচ্চ ক্রীড়া সম্মান অর্জুন পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন মেহুলি। তাঁর এই কৃতিত্বে গর্বে বুক ভরছে গোটা বাংলা সহ দেশের ক্রীড়াপ্রেমীদের।
রাইফেল শুটিং এমন এক খেলা, যেখানে শারীরিক দক্ষতার পাশাপাশি মানসিক দৃঢ়তা, একাগ্রতা ও ধৈর্য সবচেয়ে বড় অস্ত্র। সেই কঠিন পরীক্ষাতেই বারবার উত্তীর্ণ হয়েছেন মেহুলি ঘোষ। কঠোর অনুশীলন, আত্মবিশ্বাস এবং লক্ষ্যভেদে নিখুঁত মনোযোগ এই তিনের সমন্বয়ই তাঁকে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দেশের হয়ে পদক জয় করে তিনি প্রমাণ করেছেন, প্রতিভা ও পরিশ্রম একসঙ্গে থাকলে কোনও সীমাবদ্ধতা বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না।

খেলার মাঠে মেহুলির যাত্রাপথ মোটেও সহজ ছিল না। প্রতিটি সাফল্যের পেছনে রয়েছে বছরের পর বছর ধরে চলা নিরলস পরিশ্রম, অসংখ্য ত্যাগ এবং ব্যর্থতাকে জয় করার মানসিকতা। শুটিং রেঞ্জে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অনুশীলন, প্রতিযোগিতার চাপ সামলে নিজেকে বারবার নতুন করে প্রমাণ করা এই লড়াইয়ের কাহিনি মেহুলির সাফল্যকে আরও উজ্জ্বল করে তোলে। তিনি নিজেই জানিয়েছেন, এই জায়গায় পৌঁছাতে যে সংগ্রাম ও সাধনা করতে হয়েছে, তা তিনিই সবচেয়ে ভালো বোঝেন।
অর্জুন পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন মেহুলির কাছে শুধু একটি সম্মান নয়, বরং তাঁর দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের এক বিশেষ স্বীকৃতি। মেহুলি বলেছেন, “এটা আমার কাছে একটা আলাদা প্রাপ্তি। দেশের হয়ে খেলতে পারা যেমন গর্বের, তেমনই এই সম্মান ভবিষ্যতে আরও ভালো করার অনুপ্রেরণা দেবে।” তাঁর কথায় স্পষ্ট, এই সাফল্য তাঁকে থামিয়ে দেওয়ার নয়, বরং সামনে আরও বড় লক্ষ্য অর্জনের শক্তি জোগাবে।
ক্রীড়াবিদ হিসেবে মেহুলির সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা। বিশেষ করে বাংলার তরুণ-তরুণীদের কাছে তিনি হয়ে উঠেছেন এক অনন্য উদাহরণ যে প্রমাণ করে দেয়, সঠিক লক্ষ্য, কঠোর পরিশ্রম ও অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে আন্তর্জাতিক মঞ্চেও নিজের জায়গা করে নেওয়া সম্ভব।
আগামী দিনে মেহুলির ঝুলিতে আরও বহু সাফল্য ও সম্মান আসবে এমনটাই বিশ্বাস করছেন ক্রীড়া বিশেষজ্ঞরা। অর্জুন পুরস্কারের পথে এগিয়ে চলা এই বঙ্গকন্যা যে ভবিষ্যতেও দেশের মুখ উজ্জ্বল করবেন, তা বলাই বাহুল্য।
















