শেখ সোহেল রানা (ঢাকা) প্রতিনিধিঃ
বাংলাদেশের খুলনায় স্কুলছাত্রী আরফানা হোসেন নির্জনা (বয়স ১৬ বছর) হত্যাকাণ্ডে নতুন তথ্য উঠে এসেছে।
আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবান বন্দিতে নিহতের মা আরিফা ইয়াসমিন সীমা বলেছেন, নেশাগ্রস্ত বাবা আলিম হোসেন আকাশের আঘাতেই নির্জনার মৃত্যু হয়।

ঘটনাটি গোপন করতে স্বামী ও স্ত্রী মিলে মরদেহ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে নগরীর নিরালা প্রান্তিকা আবাসিক এলাকায় ফেলে রেখে আত্মগোপনের চেষ্টা করেন।
শুক্রবার (১০ জুলাই) বাংলাদেশের খুলনা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের বিচারক ফারুক ইকবালের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে নিহতের মা আরিফা ইয়াসমিন সীমা এসব তথ্য জানান। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালত ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খুলনার নিরালা প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার একটি সড়ক থেকে প্লাস্টিকের বস্তাবন্দি অবস্থায় নির্জনার মরদেহ উদ্ধার করে বাংলাদেশ পুলিশ। এরপর নিহতের মা-বাবা বসুপাড়ার বাসা ছেড়ে আত্মগোপনের চেষ্টা করেন। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে মা আরিফা ইয়াসমিন সীমাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জবানবন্দিতে নিহতের মা আরিফা ইয়াসমিন সীমা বলেন, অল্প বয়সে মেয়ে নির্জনার দুটি বিয়ে এবং পারিবারিক বিষয় নিয়ে প্রায়ই বাবা ও মেয়ের মধ্যে বিরোধ হতো। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় খুলনার বসুপাড়ার বাসায় পারিবারিক কলহের একপর্যায়ে বাবা আলিম হোসেন আকাশ রাগের মাথায় নির্জনার মাথার পেছনে জোরে আঘাত করেন। এতে সে মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে এবং কিছু সময়ের মধ্যেই মারা যায়।
জবানবন্দি অনুযায়ী, মেয়ের মৃত্যুর পর লোকলজ্জা ও আইনি পরিণতির ভয় থেকে স্বামী ও স্ত্রী মিলে মরদেহ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে রাতের অন্ধকারে নিরালা প্রান্তিকা আবাসিক এলাকায় ফেলে রেখে আত্মগোপন করেন। মরদেহ গুমের চেষ্টায় তিনি নিজেও স্বামীকে সহযোগিতা করেছিলেন বলে আদালতে স্বীকার করেন।
তদন্তের স্বার্থে নিহতের বাবা আলিম হোসেন আকাশকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। মামলার ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা ও হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন খুলনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম।














