
নেপালে চলমান গণবিদ্রোহ এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার আঁচ ছড়িয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবনেও। ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। তাঁর ব্যক্তিগত বাসভবনে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পর ক্ষুব্ধ জনতা একে একে প্রাক্তন এবং বর্তমান মন্ত্রীদের বাড়িতেও অগ্নিসংযোগ করেছে। এর জেরেই নেপালের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ঝালানাথ খানালের পরিবারে নেমে এল অন্ধকার। রাজধানী কাঠমান্ডুর ডাল্লু এলাকায় তাঁদের বাড়িতে বিক্ষোভকারীরা আগুন ধরিয়ে দেয়। সেই সময় বাড়িতে আটকে পড়েন ঝালানাথের স্ত্রী রাজ্যলক্ষ্মী চিত্রকর। শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির মধ্যে দাউদাউ করে জ্বলতে থাকা আগুনের মাঝে প্রাণ বাঁচানোর লড়াই করেও তিনি বেরোতে পারেননি।
পরে স্থানীয়রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে কীর্তিপুর বার্ন হাসপাতালে ভর্তি করান। কিন্তু গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় মৃত্যুর কাছে হার মানলেন তিনি। এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে শুধু ঝালানাথ পরিবারের মধ্যেই নয়, গোটা নেপালের রাজনীতিতেও।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁকে ঘরে আটকে আগুন দেওয়া হয়েছিল। পরিস্থিতি সামলাতে নেমে পড়েছে সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনী, তবে ক্রমেই বাড়ছে ক্ষোভ। রাজনৈতিক ইতিহাসে এটি নেপালের এক অন্ধকার অধ্যায় হয়ে থাকবে, যেখানে গণআন্দোলনের আগুনে পুড়ে ছাই হল একটি নিরপরাধ প্রাণ।















