
গ্রাম বাংলার হারিয়ে যেতে বসা লোকসংস্কৃতি ও অতীত ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্যে এক অনন্য সাংস্কৃতিক আয়োজনের সাক্ষী থাকল বীরভূমের রাজনগর। লক্ষ্মীপুজো উপলক্ষে রাজনগর গড়দরজায় ড্রামাটিক ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত হয় এক মনোমুগ্ধকর পুতুল নাচের অনুষ্ঠান, যা স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষদের মধ্যে বিপুল উৎসাহের সৃষ্টি করে।
বর্তমান প্রজন্ম যেখানে মোবাইল, ইন্টারনেট ও আধুনিক বিনোদনের জগতে নিমগ্ন, সেখানে এই ধরনের লোকজ শিল্পের আয়োজন যেন এক সতেজ হাওয়া। নদীয়া থেকে আগত এক দক্ষ শিল্পীদল এদিনের মঞ্চে পরিবেশন করেন ঐতিহ্যবাহী পুতুল নাচ। অনুষ্ঠানের সূচনায় ছিল হাস্যরসাত্মক কৌতুকনির্ভর পর্ব, যা দর্শকদের মনোরঞ্জন করে তোলে। এরপর পরিবেশিত হয় “দানবীর রাজা হরিশচন্দ্র” পালাটি, যা নৈতিক মূল্যবোধ, ত্যাগ ও সততার বার্তা বহন করে।
দর্শকদের মধ্যে শিশু-কিশোরদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তারা গভীর আগ্রহে ও আনন্দে উপভোগ করে এই প্রাচীন শিল্পরূপ। গ্রামীণ সংস্কৃতি ও শিল্পচর্চার প্রতি এই প্রজন্মের আগ্রহ পুনরুদ্ধারে এমন আয়োজন নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। স্থানীয় বাসিন্দারা আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জানান, এই ধরনের অনুষ্ঠান গ্রামবাংলার ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখার এক কার্যকর পথ।
আয়োজকদের মধ্যে সংস্কৃতিপ্রেমী সজল গরাঁই, চন্দন গরাঁই সহ অন্যান্য সদস্যদের নিষ্ঠা ও পরিশ্রমে অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়। তাঁদের তৎপরতা ও সাংস্কৃতিক চেতনার প্রকাশই এই উদ্যোগকে আরও অর্থবহ করে তুলেছে।
রাজনগরের এই আয়োজন প্রমাণ করে, আজও গ্রামীণ বাংলার বুকে লোকসংস্কৃতির প্রতি মানুষের ভালোবাসা অমলিন। পুতুল নাচের মতো প্রাচীন শিল্পরূপকে পুনর্জীবিত করার এই প্রয়াসই আমাদের ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান এবং আগামী প্রজন্মের হাতে তা তুলে দেওয়ার এক মূল্যবান প্রচেষ্টা।

















