
পূর্ব বর্ধমানের গলসিতে বৃহস্পতিবার ভোরবেলায় ঘটে গেল এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা। জাতীয় সড়ক ১৯-এর উপর গলসির চৌমাথা ও গলিগ্রামের মাঝামাঝি এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকা একটি লরির সংঘর্ষে এক মহিলার মৃত্যু হয়েছে এবং অন্তত ১৫ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে একটি লরি জাতীয় সড়কের উপর দাঁড়িয়ে ছিল। সেই সময় বর্ধমানগামী একটি দ্রুতগতির যাত্রীবাহী বাস লরিটিকে পাশ কাটানোর চেষ্টা করে। কিন্তু নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি সজোরে লরির গায়ে ধাক্কা মারে। সংঘর্ষ এতটাই প্রবল ছিল যে বাসের সামনের অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং যাত্রীরা ছিটকে পড়েন।
ঘটনাস্থলে আগে থেকেই ট্রাফিক পুলিশ ও সিভিক ভলান্টিয়াররা উপস্থিত ছিলেন, কারণ লরিটি রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে থাকায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছিল। স্থানীয়দের দাবি, দূর থেকেই বাসটিকে গতি কমানোর জন্য বারবার ইশারা করা হয়েছিল। কিন্তু বাসচালক সেই সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে দ্রুতগতিতেই গাড়ি চালিয়ে যান। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশদেরও সরে যেতে বাধ্য হতে হয়।
বাসের এক যাত্রী জানান, নির্ধারিত সময়ের থেকে কয়েক মিনিট দেরিতে চলছিল বাসটি। সেই কারণেই চালক দ্রুতগতিতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ। যাত্রীদের একাংশের দাবি, অতিরিক্ত গতি এবং অসাবধানতাই এই দুর্ঘটনার প্রধান কারণ।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় মানুষজন উদ্ধার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। পরে পুলিশ ও দমকল বাহিনীর সহায়তায় আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে পুরসা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর এক গুরুতর আহত মহিলার মৃত্যু হয়। মৃতার নাম সুজাতা দাস (৬০)। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁদের দাবি, গত কয়েক মাসে পূর্ব বর্ধমান জেলায় একাধিক বাস দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে, যা যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। অনেকেই মনে করছেন, বাসচালকদের বেপরোয়া গাড়ি চালানো, অতিরিক্ত গতি এবং নিয়ম না মানার প্রবণতাই এই ধরনের দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।
স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন, জাতীয় সড়কে যানবাহনের গতিনিয়ন্ত্রণ, ট্রাফিক আইন প্রয়োগ এবং চালকদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হোক। পাশাপাশি যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে।
পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাস ও লরিটিকে ইতিমধ্যেই আটক করা হয়েছে এবং চালকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ফের একবার সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিল।














