শেখ সোহেল রানা (ঢাকা) প্রতিনিধিঃ
বাংলাদেশ ও ভারত সীমান্তে পুশ-ইন ইস্যুকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর মহাপরিচালক পর্যায়ের ৪ দিনব্যাপী সীমান্ত সম্মেলন শুরু আজ। সীমান্তে এ ধরনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্ক, সীমান্ত নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক আইন নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে।

আজ সোমবার (৮ জুন) শুরু হতে যাওয়া এই সম্মেলন বর্তমান সরকারের আমলে প্রথম সীমান্ত সম্মেলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের উত্তর, উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ কর্তৃক নারী ও শিশুসহ বহু মানুষকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে বিজিবির তৎপরতায় বেশ কয়েকটি এমন ঘটনা প্রতিহত করা হয়েছে।
বিজিবি মহাপরিচালকের নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল সম্মেলনে অংশ নিচ্ছে। এতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার কর্মকর্তারাও রয়েছেন। অন্যদিকে বিএসএফ মহাপরিচালকের নেতৃত্বে ভারতের প্রতিনিধি দল অংশ নিচ্ছে, যেখানে দেশটির স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও রয়েছেন।
বাংলাদেশের বিজিবি সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তে সংঘটিত একাধিক পুশ-ইন ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সম্মেলনে উপস্থাপন করা হবে। ৩ থেকে ৬ জুন পর্যন্ত চার দিনে বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে দুই শতাধিক ব্যক্তিকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
২০২৫ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত অন্তত দুই হাজারের বেশি মানুষকে সীমান্ত দিয়ে ঠেলে পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে কিছু ভারতীয় নাগরিক ও রোহিঙ্গা রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
বিজিবির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, এসব ঘটনায় কোনো ধরনের কূটনৈতিক প্রক্রিয়া বা নাগরিকত্ব যাচাই ছাড়াই কার্যক্রম চালানো হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল।
অন্যদিকে ভারতীয় পক্ষের দাবি, ফেরত পাঠানো ব্যক্তিরা বাংলাদেশি নাগরিক। তবে বাংলাদেশ বলছে, যাচাই ছাড়া কাউকে গ্রহণ করা হবে না।
















